নিজের প্রতি যে নিজেই বিরক্ত হয়, তার জন্য আমার বড্ড আফসোস লাগে।
মানুষ যখন নিজের উপর নিজের আস্থা এবং বিশ্বাসের অবচয় হওয়াকে আবিষ্কার করতে শুরু করে, তখন থেকে সে একা হতে থাকে। একাকিত্ব ব্যপারটা ততোক্ষন পর্যন্ত একাকিত্ব না, যতক্ষন পর্যন্ত সে তার নিজের মাথার উপর নিজেই ছায়া হয়ে নিজেকে একজন যোদ্ধার মতো সুরক্ষা করতে সক্ষম হয়। একাকিত্ব ব্যপারটা হলো, যখন মানুষ নিজেই নিজের সঙ্গ ত্যাগ করে। একাকিত্ব হলো, যখন সে তার নিজের শরীরের সাথে মনের বিচ্ছেদ ঘটায়। একাকিত্বকে আমি একটা সুইসাইডাল এটেম্প হিসেবেই ধরে নিই। মানুষ যখন তার নিজের পাশে নিজেই নিজের পিতার মতো করে দাঁড়াতে পারেনা, মানুষ যখন নিজের কাঁধের উপর নিজের হাতের স্পর্শে আর ভরসা পায়না, মানুষ যখন নিজেকে নিয়ে আর স্বপ্ন দেখতে পারেনা, তখনই মূলত মানুষ একা হয়ে যায়।
জীবন থেকে দু একজন মানুষের চলে যাওয়ার পর যে সাময়িক শূন্যতা গ্রাস করতে শুরু করে, ওটা আসলে একাকিত্ব না।
মানুষ যখন নিজের উপর নিজের আস্থা এবং বিশ্বাসের অবচয় হওয়াকে আবিষ্কার করতে শুরু করে, তখন থেকে সে একা হতে থাকে। একাকিত্ব ব্যপারটা ততোক্ষন পর্যন্ত একাকিত্ব না, যতক্ষন পর্যন্ত সে তার নিজের মাথার উপর নিজেই ছায়া হয়ে নিজেকে একজন যোদ্ধার মতো সুরক্ষা করতে সক্ষম হয়। একাকিত্ব ব্যপারটা হলো, যখন মানুষ নিজেই নিজের সঙ্গ ত্যাগ করে। একাকিত্ব হলো, যখন সে তার নিজের শরীরের সাথে মনের বিচ্ছেদ ঘটায়। একাকিত্বকে আমি একটা সুইসাইডাল এটেম্প হিসেবেই ধরে নিই। মানুষ যখন তার নিজের পাশে নিজেই নিজের পিতার মতো করে দাঁড়াতে পারেনা, মানুষ যখন নিজের কাঁধের উপর নিজের হাতের স্পর্শে আর ভরসা পায়না, মানুষ যখন নিজেকে নিয়ে আর স্বপ্ন দেখতে পারেনা, তখনই মূলত মানুষ একা হয়ে যায়।
জীবন থেকে দু একজন মানুষের চলে যাওয়ার পর যে সাময়িক শূন্যতা গ্রাস করতে শুরু করে, ওটা আসলে একাকিত্ব না।
আমি ঘুরে ফিরে কেন জানি আত্মনির্ভরশীল মানুষদের প্রতি এক ধরনের টান অনুভব করি। আত্মনির্ভশীলতা বলতে আমি শুধু অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতাকে বুঝিনা। আত্মনির্ভরশীলতা বলতে আমি বুঝি, সেল্ফ ডিপেন্ডেন্সি উইথ সেল্ফ রেসপেক্ট। আত্মনির্ভরশীলতা বলতে আমি বুঝি, সমস্ত পৃথিবীর বিপরীতে দাঁড়িয়ে নিজেকে নিজের ঢাল হতে হয়। আত্মনির্ভরশীলতা মানে প্রচন্ড জ্বরের ঘোরে প্রিয় মানুষের অস্তিত্বকে পাশের বালিশে দেখার আকুলতায় কাতর না হয়ে, নিজের মাথায় নিজেই জলপট্টি দিয়ে নিজেকে বুঝানো "এসব ছোট ছোট সমস্যা জীবনে না থাকলে মানুষ কত'টাই না অসহায় হয়ে যেত! কত'টা নিথর হয়ে বসে থাকতো অবসরে! কত'টা বিরক্তিকর হতো জীবনের এই আয়ুস্কাল!"
আমি যখন কারো কাছ থেকে খুব ঠকে গিয়ে ভেঙে যেতে শুরু করি, তখন নিজেই নিজের স্তম্ভ হয়ে উঠি। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকি নিজের সম্মুক্ষে। ভেঙে পরলে হবেনা। অমানুষ মানুষের জীবনে আসে ঠকানোর জন্য, যে দু একজন ঠকায় না তারা তো অমানুষের তালিকায় নেই। যারা অমানুষের তালিকা থেকে উঠে এসে জীবনে ঢুকে গিয়েছিলো আলোর মতো, তারা একদিন অন্ধকারে ছুটে পালাবে, এটাই তো স্বাভাবিক।
একটু বড় হওয়ার পর মানুষের প্রতি প্রত্যাশাকে এত'টা নিচে নামিয়ে এনেছি যে, মানুষ মানুষকে ঠকাবে এটাই সত্যি। এই চরম সত্যিটা বিশ্বাস করার পর যত মানুষ জীবনে এসেছে, আমি তাদের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে ঘড়ির সেকেন্ডের কাটা গুনতে গুনতে অপেক্ষা করে গেছি ঠকে যাওয়ার।
তারপর মানুষ যখন তার নিজের সেই চিরাচরিত প্রতারকের রূপ নিয়ে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে, আমি হাসতে হাসতে বলে দিয়েছি- আহা, কত'টা অপেক্ষার পর সত্যিটা চোখের সামনে ধরা দেয়!
একটু বড় হওয়ার পর মানুষের প্রতি প্রত্যাশাকে এত'টা নিচে নামিয়ে এনেছি যে, মানুষ মানুষকে ঠকাবে এটাই সত্যি। এই চরম সত্যিটা বিশ্বাস করার পর যত মানুষ জীবনে এসেছে, আমি তাদের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে ঘড়ির সেকেন্ডের কাটা গুনতে গুনতে অপেক্ষা করে গেছি ঠকে যাওয়ার।
তারপর মানুষ যখন তার নিজের সেই চিরাচরিত প্রতারকের রূপ নিয়ে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে, আমি হাসতে হাসতে বলে দিয়েছি- আহা, কত'টা অপেক্ষার পর সত্যিটা চোখের সামনে ধরা দেয়!
আমি এমন অনেক মানুষকেই চিনি, যারা বছরের পর বছর একই ব্যথাকে পুঁজি করে শূন্যতার চাষাবাদ করে চলেছে মগজে।
এদের ঘড়ির কাটা ঘুরে চলে নিজস্ব নিয়মে, এরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনা। মানুষকে আমি তখনই আত্মনির্ভশীল বলি, যখন সে সমস্ত দুঃখ কষ্ট অপ্রাপ্তিকে পায়ে দলে সামনে হাটতে শিখে যায়। নিজেকে নিজেই নিয়ন্ত্রন করার সক্ষমতার চেয়ে বড় অর্জন মানুষের আর হয়না।
এদের ঘড়ির কাটা ঘুরে চলে নিজস্ব নিয়মে, এরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনা। মানুষকে আমি তখনই আত্মনির্ভশীল বলি, যখন সে সমস্ত দুঃখ কষ্ট অপ্রাপ্তিকে পায়ে দলে সামনে হাটতে শিখে যায়। নিজেকে নিজেই নিয়ন্ত্রন করার সক্ষমতার চেয়ে বড় অর্জন মানুষের আর হয়না।
জীবনের প্রতি ড্যামকেয়ার স্বভাবের মানুষদের একটা নিজস্ব জগত থাকে। কোন ঝড়ই এদের ঘরের ছাউনি উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারেনা। যদিও প্রচন্ড প্রলয়ে ভেঙে যায় ভিটা, ক্ষয়ে যায় পায়ের নিচের মাটি, উড়ে যায় দেয়াল, তবুও এরা হাসতে হাসতে নতুন করে আবার ঘরের খুটিতে পেরেক লাগায়। এরা জীবনের প্রতি ড্যামকেয়ার মানে, এদের কোন স্থায়ী ব্যথা নেই। এদের ব্যথার পর ব্যথা আসে, এরা বারবার সেসব ব্যথাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আবার হাটে, পথ চলে, দৌড়াতে শুরু করে।
শুধু আটকে যায় তারা, যারা প্রচন্ড কেয়ার স্বভাবের। এত'টাই কেয়ার স্বভাবের যে, পুরাতন যত্নের গল্পকে মন্দির বানিয়ে পূজা করে যায় আজীবন।
শুধু আটকে যায় তারা, যারা প্রচন্ড কেয়ার স্বভাবের। এত'টাই কেয়ার স্বভাবের যে, পুরাতন যত্নের গল্পকে মন্দির বানিয়ে পূজা করে যায় আজীবন।
পৃথিবীর সবচেয়ে লজ্জার এবং আফসোসের এক লাইনের ছোটগল্প হলো- "আমি আমার নিজের প্রতি প্রচন্ড বিরক্ত!"
এই বিরক্তিটা মানুষের সহজ সরল স্বাভাবিক জীবনের গতিকে জটিল করে ফেলে। নিজের মন এবং শরীরের ঠিক মধ্যবর্তী রেখায় শক্ত কনক্রিট দেয়াল তুলে দেয়। নিজের মন এবং শরীরের যে বিচ্ছেদ, এটাই মূলত মানুষকে একা করে ফেলে। এই ব্যক্তিগত বিচ্ছেদের শক্ত দেয়ালের মজবুত অবকাঠামোকেই আমি বলি- একাকিত্ব!
এই বিরক্তিটা মানুষের সহজ সরল স্বাভাবিক জীবনের গতিকে জটিল করে ফেলে। নিজের মন এবং শরীরের ঠিক মধ্যবর্তী রেখায় শক্ত কনক্রিট দেয়াল তুলে দেয়। নিজের মন এবং শরীরের যে বিচ্ছেদ, এটাই মূলত মানুষকে একা করে ফেলে। এই ব্যক্তিগত বিচ্ছেদের শক্ত দেয়ালের মজবুত অবকাঠামোকেই আমি বলি- একাকিত্ব!
একাকিত্ব থেকে দূরে থাকতে হলে, নিজের সাথে নিজেকে লেগে থাকতে হয়। এত'টাই লেগে থাকতে হয়, যেমন করে মাটির সাথে লেগে থাকে গাছ!
নিজের সাথে নিজেকে এত'টা সঠিক ভাবে টেনে নিতে হয়, যেমন করে রেললাইন হয়ে ছুটে চলে গতিশীল ট্রেন!
মন এবং শরীরের চলার এই পথ থেকে মানুষ নামের এই ইঞ্জিনের যান যখন লাইনচ্যুত হয়ে যায়, তখনই এক্সিডেন্ট ঘটে।
আর সেই এক্সিডেন্টকে তুমি চোখ বন্ধ করে নাম দিতে পারো - একাকিত্ব!
নিজের সাথে নিজেকে এত'টা সঠিক ভাবে টেনে নিতে হয়, যেমন করে রেললাইন হয়ে ছুটে চলে গতিশীল ট্রেন!
মন এবং শরীরের চলার এই পথ থেকে মানুষ নামের এই ইঞ্জিনের যান যখন লাইনচ্যুত হয়ে যায়, তখনই এক্সিডেন্ট ঘটে।
আর সেই এক্সিডেন্টকে তুমি চোখ বন্ধ করে নাম দিতে পারো - একাকিত্ব!
Comments
Post a Comment