জানালার গ্রিল ধরে পথের দিকে তাকিয়ে আছে অবনী।
ইন্দ্রনীল অফিস শেষে এসময়টাতেই ঘরে ফিরে।
রোজ সন্ধ্যায় প্রিয় মানুষের ঘরে ফেরার অপেক্ষাটাই যেন আজকাল অভ্যাস হয়ে গেছে।
মেয়েদের বিয়ের পর প্রথম কয়েক বছর স্বামীর ঘরে ফেরার অপেক্ষায় পথের দিকে তাকিয়ে থাকার একটা প্রচলিত নিয়ম আছে।
কারো জন্য কেউ অপেক্ষা না করলেও, মানুষ হয়তো ঠিক সময়েই তার গন্তব্যে পৌছে যায়। তবুও, একটা অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসা তো অত'টা সহজ না।
ইন্দ্রনীল অফিস শেষে এসময়টাতেই ঘরে ফিরে।
রোজ সন্ধ্যায় প্রিয় মানুষের ঘরে ফেরার অপেক্ষাটাই যেন আজকাল অভ্যাস হয়ে গেছে।
মেয়েদের বিয়ের পর প্রথম কয়েক বছর স্বামীর ঘরে ফেরার অপেক্ষায় পথের দিকে তাকিয়ে থাকার একটা প্রচলিত নিয়ম আছে।
কারো জন্য কেউ অপেক্ষা না করলেও, মানুষ হয়তো ঠিক সময়েই তার গন্তব্যে পৌছে যায়। তবুও, একটা অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসা তো অত'টা সহজ না।
বিকেল থেকে অবনী আয়নার সামনে বসে থাকে। ব্রনের দাগটা কতটুকু কমলো, ছোট টিপ পরবে নাকি বড় টিপ, কি রংয়ের লিপিস্টিকে তাকে সবচেয়ে বেশি সুন্দর দেখায়, চোখে কাজল পরবে কি পরবেনা, তাঁতের শাড়ি পরবে নাকি সিল্কের! এসব করতে করতেই অবনীর বিকেল সন্ধ্যার দিকে হেটে যায়। মানুষ তার কাছের মানুষের মনোযোগ আকর্ষন করার চেষ্টাটা সবসময়ই করে।
এতসব আয়োজন থাকে এজন্যই যাতে মুগ্ধতা কখনো না ফুরায়।
এতসব আয়োজন থাকে এজন্যই যাতে মুগ্ধতা কখনো না ফুরায়।
বিয়ের পর বাবার বাড়ি ছেড়ে এসে স্বামীর বাড়িতে প্রবেশের পর এক ধরনের নিঃসঙ্গতা অনুভব হয়। সবাই হয়তো আপন করেই রাখে, তবুও কোথায় যেন একটা শূন্যতার আকাশ জন্মায়!
এই শূন্যতাটা আসলে পুরাতন ঘর ছেড়ে আসার শূন্যতা।
এই শূন্যতাটা আসলে পুরাতন ঘর ছেড়ে আসার শূন্যতা।
অফিস শেষে ইন্দ্রনীল ঘরে ফিরে ক্লান্ত হয়ে যায়। জুতাটা খুলে ছুড়ে ফেলে মেঝেতে। বিছানায় গাঁ এলিয়ে দেয়।
পায়ের মোজাটা খোলার শক্তিটুকুও যেন অবশিষ্ট নেই আর।
এরপর ফ্রেস হয়ে খাবার টেবিলে খেতে বসে। অবনী মাছের মাথাটা তুলে দেয় ইন্দ্রনীলের প্লেটে। আরেক চামচ ভাত দিবে কিনা, জিজ্ঞেস করে।
কোনদিন ইন্দ্রনীল ভাত কম খেলে, অবনী ওয়াশরুমে ঢুকে কান্না করে। রান্নাটা বোধয় আজ ভালো হয়নি। মানুষটা একদম খেতে পারলো না।
পায়ের মোজাটা খোলার শক্তিটুকুও যেন অবশিষ্ট নেই আর।
এরপর ফ্রেস হয়ে খাবার টেবিলে খেতে বসে। অবনী মাছের মাথাটা তুলে দেয় ইন্দ্রনীলের প্লেটে। আরেক চামচ ভাত দিবে কিনা, জিজ্ঞেস করে।
কোনদিন ইন্দ্রনীল ভাত কম খেলে, অবনী ওয়াশরুমে ঢুকে কান্না করে। রান্নাটা বোধয় আজ ভালো হয়নি। মানুষটা একদম খেতে পারলো না।
দুদিন পরেই, অবনী এবং ইন্দ্রনীলের বিবাহ বার্ষিকি।
দেখতে দেখতে ৫ টা বছর কেটে গেলো। দেখতে দেখতে যে কেটে গেছে, তেমনটা নয়। সময় আসলে এমনি এমনি কাটে না। অনেক দুঃখ কষ্ট চড়াই উতরাই কাটিয়ে সময়কে পার করতে হয়। তবুও, সময় কেটে যাওয়ার পর মনে হয়, সেই তো সেদিন এটা হয়েছিলো ওটা হয়েছিলো।
দেখতে দেখতে ৫ টা বছর কেটে গেলো। দেখতে দেখতে যে কেটে গেছে, তেমনটা নয়। সময় আসলে এমনি এমনি কাটে না। অনেক দুঃখ কষ্ট চড়াই উতরাই কাটিয়ে সময়কে পার করতে হয়। তবুও, সময় কেটে যাওয়ার পর মনে হয়, সেই তো সেদিন এটা হয়েছিলো ওটা হয়েছিলো।
ম্যারেজ এনিভারসারিতে ইন্দ্রনীল সন্ধ্যার আগেই ঘরে ফিরেছে।
ও সাধারনত এত তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরে না। আজ ফিরেছে।
তার হাতে একগুচ্ছ দোলনচাঁপা। একটা কেক। আরেকটা ছোট্ট ব্যাগ।
রুমে ঢুকেই ইন্দ্রনীল ফুলগুলো অবনীর হাতে দিয়ে বললো-
শুভ বিবাহ বার্ষিকি, অবনী!
কেকটা কেটে ইন্দ্রনীল ছোট্ট ব্যাগটা অবনীর হাতে তুলে দিল। ব্যাগের ভেতরে কয়েকটা টিপের পাতা। কাচের চুড়ি, এক কৌটা কাজল।
অবনীর চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পরছে। আনন্দে মানুষের কান্না পায়, দুঃখ কষ্ট অবহেলাতেও কান্না পায়।
এই কান্নার রং একই রকম হলেও, অবনীর কাঁদতে ভালো লাগছে।
এই কান্না যদি কখনোই না থামতো!
ইন্দ্রনীল অবনীর কাঁধে হাত রেখে বললো- টিপ পরলে তোমাকে কি যে সুন্দর লাগে!
ও সাধারনত এত তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরে না। আজ ফিরেছে।
তার হাতে একগুচ্ছ দোলনচাঁপা। একটা কেক। আরেকটা ছোট্ট ব্যাগ।
রুমে ঢুকেই ইন্দ্রনীল ফুলগুলো অবনীর হাতে দিয়ে বললো-
শুভ বিবাহ বার্ষিকি, অবনী!
কেকটা কেটে ইন্দ্রনীল ছোট্ট ব্যাগটা অবনীর হাতে তুলে দিল। ব্যাগের ভেতরে কয়েকটা টিপের পাতা। কাচের চুড়ি, এক কৌটা কাজল।
অবনীর চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পরছে। আনন্দে মানুষের কান্না পায়, দুঃখ কষ্ট অবহেলাতেও কান্না পায়।
এই কান্নার রং একই রকম হলেও, অবনীর কাঁদতে ভালো লাগছে।
এই কান্না যদি কখনোই না থামতো!
ইন্দ্রনীল অবনীর কাঁধে হাত রেখে বললো- টিপ পরলে তোমাকে কি যে সুন্দর লাগে!
অবনী ভাবে, ও কখনো বাড়ি ফিরে বলেনি- আমাকে আজ সুন্দর দেখাচ্ছে।
ও কোনদিন বুঝতে দেয়নি, চোখে কাজল পরলে ও কতটুকু মুগ্ধ হয়!
পুরুষ মানুষ বোধয় এমনি হয়, মুগ্ধতা ব্যপারটাকেও সবসময় বুঝতে দেয় না।
তারা মুগ্ধ হবে সকালে বিকেলে রাতে, তবুও মুখ ফুটে বলবে না মুগ্ধতার কথা।
অথচ, যে মেয়েটা সারাদিন সংসারের কাজকর্ম শেষ করে তার জন্য পরিপাটি হয়ে বসে থাকে, সে প্রত্যাশা করে, মানুষটা তার দিকে ড্যাবড্যাব দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বলুক - তুমি এত অসহ্য রকমের সুন্দর কেন?
ও কোনদিন বুঝতে দেয়নি, চোখে কাজল পরলে ও কতটুকু মুগ্ধ হয়!
পুরুষ মানুষ বোধয় এমনি হয়, মুগ্ধতা ব্যপারটাকেও সবসময় বুঝতে দেয় না।
তারা মুগ্ধ হবে সকালে বিকেলে রাতে, তবুও মুখ ফুটে বলবে না মুগ্ধতার কথা।
অথচ, যে মেয়েটা সারাদিন সংসারের কাজকর্ম শেষ করে তার জন্য পরিপাটি হয়ে বসে থাকে, সে প্রত্যাশা করে, মানুষটা তার দিকে ড্যাবড্যাব দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বলুক - তুমি এত অসহ্য রকমের সুন্দর কেন?
ইন্দ্রনীল যতক্ষন অফিস থাকে, অবনীর একা লাগে। এত বড় ঘর অথচ কোন মানুষ নেই।
সে ঘরে ফিরে কখনো বলেনা- সারাদিন খুব একা লেগেছে?
এসব বললেই যে একাকিত্ব কমে যাবে, তেমনটা না। তবুও, মানুষের অসুখ হলে মানুষ বলে - টেনশন করো না, সব ঠিক হয়ে যাবে।
কখনো কখনো কিছুই হয়তো ঠিক হয়না, তবুও বেঁচে থাকতে ইচ্ছে হয়।
কারো একা লেগেছিলো কিনা জানতে চাওয়াতে একাকিত্ব কমেনা ঠিকই, তবে এই যত্নটুকু ভালো লাগে।
সে ঘরে ফিরে কখনো বলেনা- সারাদিন খুব একা লেগেছে?
এসব বললেই যে একাকিত্ব কমে যাবে, তেমনটা না। তবুও, মানুষের অসুখ হলে মানুষ বলে - টেনশন করো না, সব ঠিক হয়ে যাবে।
কখনো কখনো কিছুই হয়তো ঠিক হয়না, তবুও বেঁচে থাকতে ইচ্ছে হয়।
কারো একা লেগেছিলো কিনা জানতে চাওয়াতে একাকিত্ব কমেনা ঠিকই, তবে এই যত্নটুকু ভালো লাগে।
মাঝরাতে অবনীর ঘুম ভেঙে যায়। ইন্দ্রনীল মোবাইল ফোনটা চাপছে। খুব দ্রুত আঙুল চালাচ্ছে। কারো সাথে হয়তো কথা বলছে।
আড়চোখে তাকিয়ে অবনী একটা মেসেজ দেখতে পেলো। মেসেজটা কোন মেয়েকে উদ্দেশ্য করে লিখা। যাতে লিখা আছে - অবনী জেগে যেতে পারে। আপাতত আর রাত জাগতে পারবোনা। তুমি ঘুমাও। কাল অফিসে দেখা হবে।
আর হ্যা, আমি নীল রংয়ের শার্ট পরবো কাল। তুমি নীল শাড়িটা পরে এসো।
আড়চোখে তাকিয়ে অবনী একটা মেসেজ দেখতে পেলো। মেসেজটা কোন মেয়েকে উদ্দেশ্য করে লিখা। যাতে লিখা আছে - অবনী জেগে যেতে পারে। আপাতত আর রাত জাগতে পারবোনা। তুমি ঘুমাও। কাল অফিসে দেখা হবে।
আর হ্যা, আমি নীল রংয়ের শার্ট পরবো কাল। তুমি নীল শাড়িটা পরে এসো।
অবনী সারারাত ঘুমাতে পারেনি। তবে, ঘুমানোর ভান ধরে আছে।
কি থেকে যে কি হয়ে গেলো, এটা বুঝতে পারছেনা। অবনীই বোধয় ভুল দেখেছে। ঘুম ঘুম চোখে মানুষ কত কিছুই তো দেখে, কিন্তু এত রাতে ইন্দ্রনীল জেগে আছে কেন?
নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেনা, অবনী। নিশ্চয়ই এটা তার মনের ভুল। যে মানুষ সন্ধ্যায় তার স্ত্রীর জন্য কাজলের কৌটা নিয়ে ঘরে ফিরে, সে প্রতারক হতে পারেনা।
কি থেকে যে কি হয়ে গেলো, এটা বুঝতে পারছেনা। অবনীই বোধয় ভুল দেখেছে। ঘুম ঘুম চোখে মানুষ কত কিছুই তো দেখে, কিন্তু এত রাতে ইন্দ্রনীল জেগে আছে কেন?
নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেনা, অবনী। নিশ্চয়ই এটা তার মনের ভুল। যে মানুষ সন্ধ্যায় তার স্ত্রীর জন্য কাজলের কৌটা নিয়ে ঘরে ফিরে, সে প্রতারক হতে পারেনা।
সকালে ঘুম থেকে উঠে ইন্দ্রনীল তার নীল রংয়ের শার্টটা খুঁজছে।
আলমারিতে কোন নীল রংয়ের শার্ট নেই। এমনকি হালকা নীল, আকাশী কোন শার্টই দেখা যাচ্ছে না। খাটের উপর একটা হালকা বাদামী রংয়ের শার্ট, কালো প্যান্ট, কালো বেল্ট আর হাতঘড়িটা রাখা আছে।
পাশের ঘর থেকে অবনী এসে জিজ্ঞেস করলো- এখনো রেডি হওনি?
ইন্দ্রনীল বললো,
-আচ্ছা, নীল রংয়ের শার্টগুলো কোথায় রেখেছো?
- সবগুলো ধোয়ার জন্য ভিজিয়ে রেখেছি।
- ওগুলো তো একটাও ময়লা ছিল না।
- ময়লাই ছিল। আলমারিতে থাকতে থাকতে কেমন একটা ভ্যাপসা গন্ধ হয়ে গেছে।
- এজন্য সবগুলো একসাথে ভেজাতে হবে?
- আজকে বাদামী রংয়ের শার্টটাই পরে যাওনা!
আলমারিতে কোন নীল রংয়ের শার্ট নেই। এমনকি হালকা নীল, আকাশী কোন শার্টই দেখা যাচ্ছে না। খাটের উপর একটা হালকা বাদামী রংয়ের শার্ট, কালো প্যান্ট, কালো বেল্ট আর হাতঘড়িটা রাখা আছে।
পাশের ঘর থেকে অবনী এসে জিজ্ঞেস করলো- এখনো রেডি হওনি?
ইন্দ্রনীল বললো,
-আচ্ছা, নীল রংয়ের শার্টগুলো কোথায় রেখেছো?
- সবগুলো ধোয়ার জন্য ভিজিয়ে রেখেছি।
- ওগুলো তো একটাও ময়লা ছিল না।
- ময়লাই ছিল। আলমারিতে থাকতে থাকতে কেমন একটা ভ্যাপসা গন্ধ হয়ে গেছে।
- এজন্য সবগুলো একসাথে ভেজাতে হবে?
- আজকে বাদামী রংয়ের শার্টটাই পরে যাওনা!
ইন্দ্রনীল হঠাত রেগে গিয়ে বললো,
- আমাকে জিজ্ঞেস না করে, তুমি শার্ট ধুয়ে দিলে কেন?
- আশ্চর্য, কখনো তো আমি তোমাকে এসব জিজ্ঞেস করে করিনা।
- কখনো করো না, আজ করা উচিত ছিল।
- আমাকে জিজ্ঞেস না করে, তুমি শার্ট ধুয়ে দিলে কেন?
- আশ্চর্য, কখনো তো আমি তোমাকে এসব জিজ্ঞেস করে করিনা।
- কখনো করো না, আজ করা উচিত ছিল।
ইন্দ্রনীল বাদামী শার্ট পরেই ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। পেছন থেকে অবনী জিজ্ঞেস করলো- নাস্তা না খেয়ে বেরিয়ে যাচ্ছো যে!
ইন্দ্রনীল কোন জবাব দিল না। সোজা বাইরে বের হয়ে গেলো।
ইন্দ্রনীল কোন জবাব দিল না। সোজা বাইরে বের হয়ে গেলো।
ঘর থেকে বের হওয়ার পর অবনী দরজা লাগিয়ে কান্না করা শুরু করলো। হাউমাউ টাইপ কান্না।
কিছুতেই অবনীর কান্না থামছেনা। মানুষের মরে যাওয়ার কান্না একসময় থেমে যায়, জীবিত মানুষের কাছ থেকে প্রতারিত হওয়ার কান্নারা কখনো থামেনা।
যে মানুষ আমার না, সে যার তার হতে পারে। আমার মানুষ অন্য কারো হবে, এরচেয়ে কষ্টের আর কিছু পৃথিবীতে নেই।
মানুষ কখনো কাছের মানুষকে হারাতে চায়না।
কিছুতেই অবনীর কান্না থামছেনা। মানুষের মরে যাওয়ার কান্না একসময় থেমে যায়, জীবিত মানুষের কাছ থেকে প্রতারিত হওয়ার কান্নারা কখনো থামেনা।
যে মানুষ আমার না, সে যার তার হতে পারে। আমার মানুষ অন্য কারো হবে, এরচেয়ে কষ্টের আর কিছু পৃথিবীতে নেই।
মানুষ কখনো কাছের মানুষকে হারাতে চায়না।
সন্ধ্যায় ইন্দ্রনীল ঘরে ফিরেছে। বাইরে থেকে তাকিয়ে দেখলো, আজ কোন রূপবতী মেয়ে জানালার গ্রিল ধরে অপেক্ষা করছেনা।
ইন্দ্রনীলের বুকের ভেতর মোচর দিয়ে উঠলো। অবনীর কিছু হয়নি তো!
ঘরে ঢুকে ইন্দ্রনীল দ্যাখে অবনী খাটের উপর শুয়ে আছে। সকালে যেভাবে রেখে গিয়েছিলো, সেই একই জামা পরা।
চুল গুলো উস্কুখুস্কু দেখাচ্ছে। চোখ দুটো ফুলে গেছে। বুঝা যাচ্ছে, সারাদিন কান্না করেছে মেয়েটা।
ইন্দ্রনীল অবনীর মাথায় হাত রেখে বললো,
- কি হয়েছে? শরীর খারাপ লাগছে?
অবনী তার প্রশ্নের কোন জবাব দিল না।
কাছের মানুষকেও যে মাঝে মাঝে অসহ্য লাগে, এটা অবনী টের পাচ্ছে।
খুব কাছের মানুষ প্রতারণা করলে, সে আর কাছের মানুষ থাকেনা।
দূরের মানুষ এবং কাছের মানুষের মাঝখানে যে মানুষ থাকে, তাকে অসহ্য মানুষ লাগে।
ইন্দ্রনীলের বুকের ভেতর মোচর দিয়ে উঠলো। অবনীর কিছু হয়নি তো!
ঘরে ঢুকে ইন্দ্রনীল দ্যাখে অবনী খাটের উপর শুয়ে আছে। সকালে যেভাবে রেখে গিয়েছিলো, সেই একই জামা পরা।
চুল গুলো উস্কুখুস্কু দেখাচ্ছে। চোখ দুটো ফুলে গেছে। বুঝা যাচ্ছে, সারাদিন কান্না করেছে মেয়েটা।
ইন্দ্রনীল অবনীর মাথায় হাত রেখে বললো,
- কি হয়েছে? শরীর খারাপ লাগছে?
অবনী তার প্রশ্নের কোন জবাব দিল না।
কাছের মানুষকেও যে মাঝে মাঝে অসহ্য লাগে, এটা অবনী টের পাচ্ছে।
খুব কাছের মানুষ প্রতারণা করলে, সে আর কাছের মানুষ থাকেনা।
দূরের মানুষ এবং কাছের মানুষের মাঝখানে যে মানুষ থাকে, তাকে অসহ্য মানুষ লাগে।
আজ বাড়িতে রান্না হয়নি। গত ৫ বছরে এই প্রথম টেবিলে খাবার সাজানো নেই।
ইন্দ্রনীল বুঝতে পারছেনা, কি হয়েছে। বাইরে থেকে খাবার কিনে অবনীকে খেতে ডাকা হলো। অবনী বিছানা থেকে উঠছেনা।
ইন্দ্রনীল বুঝতে পারছেনা, কি হয়েছে। বাইরে থেকে খাবার কিনে অবনীকে খেতে ডাকা হলো। অবনী বিছানা থেকে উঠছেনা।
ঘুমানোর সময়, ইন্দ্রনীল একটা বাচ্চা ছেলের মতো অবনীকে জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞেস করলো-
কি মন খারাপ? বাসার কথা মনে পরেছে? আচ্ছা, সামনের ছুটিতে তোমাকে বাড়ি থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসবো।
এখন কিছু খেয়ে নাও।
কি মন খারাপ? বাসার কথা মনে পরেছে? আচ্ছা, সামনের ছুটিতে তোমাকে বাড়ি থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসবো।
এখন কিছু খেয়ে নাও।
অবনী ইন্দ্রনীলকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো,
- ও কি আজ নীল শাড়ি পরেই এসেছিলো?
ইন্দ্রনীল ইতস্তত হয়ে জবাব দিল,
- কে এসেছিলো?
অবনী বললো,
- ওই যে তোমার অফিসের কলিগ? ও কি দেখতে খুব সুন্দরী?
ইন্দ্রনীল চুপ হয়ে আছে। তার সব কথা জ্বীভের অগ্রভাগে এসে আটকে যাচ্ছে। কি বলবে, বুঝে উঠতে পারছেনা।
তবুও বললো, এসব নিয়ে তোমার সাথে পরে কথা বলবো।
এখন একটু খেয়ে নাও। সারাদিন না খেয়ে আছো।
অবনী খাবেনা। জবাব না পাওয়া পর্যন্ত তার গলা দিয়ে খাবার নামবে না।
- ও কি আজ নীল শাড়ি পরেই এসেছিলো?
ইন্দ্রনীল ইতস্তত হয়ে জবাব দিল,
- কে এসেছিলো?
অবনী বললো,
- ওই যে তোমার অফিসের কলিগ? ও কি দেখতে খুব সুন্দরী?
ইন্দ্রনীল চুপ হয়ে আছে। তার সব কথা জ্বীভের অগ্রভাগে এসে আটকে যাচ্ছে। কি বলবে, বুঝে উঠতে পারছেনা।
তবুও বললো, এসব নিয়ে তোমার সাথে পরে কথা বলবো।
এখন একটু খেয়ে নাও। সারাদিন না খেয়ে আছো।
অবনী খাবেনা। জবাব না পাওয়া পর্যন্ত তার গলা দিয়ে খাবার নামবে না।
ইন্দ্রনীল তার মোবাইল ফোনটা বের করে একটা ছবি দেখিয়ে বললো, তার নাম অরুনিমা।
ও আমার কলেজের বন্ধু। শুধু বন্ধু না, একসময় তার সাথে আমার সম্পর্ক ছিল। তারপর তার একদিন বিয়ে হয়ে যায়।
আমি যেহেতু তখনো চাকরি বাকরি কিছুই করতাম না, তাই তাকে বিয়ে করাটাও সম্ভব হয়নি।
চাকরির সুবাদে তার সাথে পাশাপাশি ডেস্কে কাজ করছি।
একই অফিসে জব হয়ে যাবে, এটা আমরা কখনোই কেউ ভাবিনি।
তার জন্য আমার একটা পরিচিত মায়ার টান আছে, তবে আমি তোমাকেও ভালোবাসি।
আমি তোমাকেও ভালোবাসি বাক্যটায় অবনী ফুঁপিয়ে কান্না করা শুরু করলো।
আমি তোমাকে ভালোবাসি এবং আমি তোমাকেও ভালোবাসি বলার মধ্যে একটা পার্থক্য আছে। আমি তোমাকেও ভালোবাসিটা ঐচ্ছিক।
ও আমার কলেজের বন্ধু। শুধু বন্ধু না, একসময় তার সাথে আমার সম্পর্ক ছিল। তারপর তার একদিন বিয়ে হয়ে যায়।
আমি যেহেতু তখনো চাকরি বাকরি কিছুই করতাম না, তাই তাকে বিয়ে করাটাও সম্ভব হয়নি।
চাকরির সুবাদে তার সাথে পাশাপাশি ডেস্কে কাজ করছি।
একই অফিসে জব হয়ে যাবে, এটা আমরা কখনোই কেউ ভাবিনি।
তার জন্য আমার একটা পরিচিত মায়ার টান আছে, তবে আমি তোমাকেও ভালোবাসি।
আমি তোমাকেও ভালোবাসি বাক্যটায় অবনী ফুঁপিয়ে কান্না করা শুরু করলো।
আমি তোমাকে ভালোবাসি এবং আমি তোমাকেও ভালোবাসি বলার মধ্যে একটা পার্থক্য আছে। আমি তোমাকেও ভালোবাসিটা ঐচ্ছিক।
সেদিন রাতে অবনী কিছু খায়নি। পরেরদিন সকালে অবনী টেবিলে নাস্তা সাজিয়ে বসে আছে। ইন্দ্রনীলকে জিজ্ঞেস করলো, "আজ কি রংয়ের শার্ট পরবে?"
সব রংয়ের শার্ট সাজিয়ে রাখা আছে আলমারিতে। যেটা খুশি পরে যেও।
ইন্দ্রনীল নির্বাক দৃষ্টিতে অবনীর দিকে তাকিয়ে আছে। কিছু বলতে পারছেনা।
টেবিলে খাবার সাজানো। নাস্তা শেষ করে অফিস যাওয়ার সময় অবনী তার হাতে একটা ছোট্ট চিরকুট ধরিয়ে দেয় এবং বলে দেয়, "চিঠিটা অফিস যেয়ে খুলবে!"
সব রংয়ের শার্ট সাজিয়ে রাখা আছে আলমারিতে। যেটা খুশি পরে যেও।
ইন্দ্রনীল নির্বাক দৃষ্টিতে অবনীর দিকে তাকিয়ে আছে। কিছু বলতে পারছেনা।
টেবিলে খাবার সাজানো। নাস্তা শেষ করে অফিস যাওয়ার সময় অবনী তার হাতে একটা ছোট্ট চিরকুট ধরিয়ে দেয় এবং বলে দেয়, "চিঠিটা অফিস যেয়ে খুলবে!"
অফিস যেয়ে ইন্দ্রনীল চিঠিটা পড়া শুরু করলো।
নীল,
চিঠির শুরুতে তোমাকে প্রিয় বলে সম্বোধন করতে পারিনি। অপ্রিয় লিখতে চেয়েও ভেতর থেকে একটা ধাক্কা খেয়েছি।
যে মানুষ একবার প্রিয় হয়, সে কখনো অপ্রিয় হতে পারেনা। বাংলা বইয়ে প্রিয় শব্দের বিপরীত শব্দটা অপ্রিয় কে বানিয়েছে, এটা নিয়ে আমার রাগ হয়।
প্রিয় কখনো অপ্রিয় তো হয়না। প্রিয় শব্দের বিপরীত শব্দ হওয়া দরকার ছিল, কিছুই না।
ভালোবাসার বেলায়ও তাই। ভালোবাসার বিপরীত শব্দ কেন ঘৃণা হবে?
ঘৃণা তো আলাদা জিনিস। মানুষ একবার যাকে ভালোবাসে তাকে ঘৃণা তো করতে পারেনা। ভালোবাসার বিপরীত শব্দও হওয়া উচিত ছিল ভালোবাসা।
চিঠির শুরুতে তোমাকে প্রিয় বলে সম্বোধন করতে পারিনি। অপ্রিয় লিখতে চেয়েও ভেতর থেকে একটা ধাক্কা খেয়েছি।
যে মানুষ একবার প্রিয় হয়, সে কখনো অপ্রিয় হতে পারেনা। বাংলা বইয়ে প্রিয় শব্দের বিপরীত শব্দটা অপ্রিয় কে বানিয়েছে, এটা নিয়ে আমার রাগ হয়।
প্রিয় কখনো অপ্রিয় তো হয়না। প্রিয় শব্দের বিপরীত শব্দ হওয়া দরকার ছিল, কিছুই না।
ভালোবাসার বেলায়ও তাই। ভালোবাসার বিপরীত শব্দ কেন ঘৃণা হবে?
ঘৃণা তো আলাদা জিনিস। মানুষ একবার যাকে ভালোবাসে তাকে ঘৃণা তো করতে পারেনা। ভালোবাসার বিপরীত শব্দও হওয়া উচিত ছিল ভালোবাসা।
আমি কখনো কাউকে চিঠি লিখিনি। আমার তো কখনো কোন প্রেমিক ছিল না। পুতুল খেলার বয়সে তোমার সাথে সংসার করা শুরু করেছি। তোমাকেই তাই প্রেমিক জানি। প্রেমিক মানি।
একটা মেয়ে তার বাবার বাড়ি থেকে কোন ভরসায় নতুন একটা ঘরে আসে জানো?
যে মানুষটার কাছে যাচ্ছে, সে হয়তো তাকে খুব যত্নে রাখবে।
যত্নের কথা নাহয় বাদ দিলাম, অন্তত বিশ্বাস করেই তো আসে!
যে মানুষটার কাছে যাচ্ছে, সে হয়তো তাকে খুব যত্নে রাখবে।
যত্নের কথা নাহয় বাদ দিলাম, অন্তত বিশ্বাস করেই তো আসে!
আমি সেদিন অরুনিমাকে লিখা তোমার মেসেজটা পড়েছি।
একসময় যাকে ভালোবাসতে, তার সাথে একই অফিসে কাজ করলে, পুরাতন মায়াটা ঠিক কত'টা কাজ করে আমি জানি না। আমার তো কোন পুরাতন মানুষ নেই। তবুও হয়তো, ভালোবাসটা এমনই হয়।
একসময় যাকে ভালোবাসতে, তার সাথে একই অফিসে কাজ করলে, পুরাতন মায়াটা ঠিক কত'টা কাজ করে আমি জানি না। আমার তো কোন পুরাতন মানুষ নেই। তবুও হয়তো, ভালোবাসটা এমনই হয়।
তুমি একসময় কাউকে ভালোবাসতে, তারপর তোমার জীবনে নতুন কেউ আসলো। তুমি পুরাতন আর নতুনকে একসাথে ভালোবাসতে পারবেনা।
আমি হয়তো কখনো তোমার ভালোবাসার মানুষ হয়ে উঠতে পারিনি। আর দশটা ঘরের স্ত্রীর মতো আমিও তোমার অভ্যাস।
অভ্যাস ব্যপারটা তখনই প্রেম হয়, যখন তোমার জীবনে অন্য কোন মানুষের অস্তিত্ব থাকবেনা।
আমি হয়তো কখনো তোমার ভালোবাসার মানুষ হয়ে উঠতে পারিনি। আর দশটা ঘরের স্ত্রীর মতো আমিও তোমার অভ্যাস।
অভ্যাস ব্যপারটা তখনই প্রেম হয়, যখন তোমার জীবনে অন্য কোন মানুষের অস্তিত্ব থাকবেনা।
তোমার সাথে যখন আমার বিয়ের কথাবার্তা চলছিলো, আমি তখনই চিন্তার গভীরে একটা সংসার সাজিয়ে ফেলেছিলাম।
আমাদের একটা ছিমছাম দু রুমের ঘর হবে। ঘরের দেয়ালে টাঙানো থাকবে দু একটা ছবি। দেয়াল ঘড়িটা কোন পাশে লাগানো হবে, আলমারিটা কোথায় রাখা হবে, এসব কিছুই মস্তিষ্কে সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিলো।
মেয়েদের কল্পনার জগতটা বিশাল হয়। তারা বাস্তবের চেয়ে কল্পনা দিয়ে সংসারটা বেশি সাজায়।
এই যে আমি ভেবে রেখেছিলাম, কোন এক পূর্নিমা রাতে আমরা কফির মগ হাতে নিয়ে বারান্দায় বসে আকাশ দেখবো। তোমার নির্ভরশীলতার কাঁধই হবে আমার মাথা রাখার জায়গা।
আমরা ঘুমাবো না। একটুও ঘুমাবো না। রোজ রোজ দুজন দুজনকে দেখি, তবুও মাঝে মাঝে আয়োজন করে তাকিয়ে থাকবো।
কথা বলবো না কোন, তবুও মুগ্ধ হবো!
এমনটা তো হয়নি কখনো।
আমাদের একটা ছিমছাম দু রুমের ঘর হবে। ঘরের দেয়ালে টাঙানো থাকবে দু একটা ছবি। দেয়াল ঘড়িটা কোন পাশে লাগানো হবে, আলমারিটা কোথায় রাখা হবে, এসব কিছুই মস্তিষ্কে সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিলো।
মেয়েদের কল্পনার জগতটা বিশাল হয়। তারা বাস্তবের চেয়ে কল্পনা দিয়ে সংসারটা বেশি সাজায়।
এই যে আমি ভেবে রেখেছিলাম, কোন এক পূর্নিমা রাতে আমরা কফির মগ হাতে নিয়ে বারান্দায় বসে আকাশ দেখবো। তোমার নির্ভরশীলতার কাঁধই হবে আমার মাথা রাখার জায়গা।
আমরা ঘুমাবো না। একটুও ঘুমাবো না। রোজ রোজ দুজন দুজনকে দেখি, তবুও মাঝে মাঝে আয়োজন করে তাকিয়ে থাকবো।
কথা বলবো না কোন, তবুও মুগ্ধ হবো!
এমনটা তো হয়নি কখনো।
স্ত্রী হিসেবে আমি ব্যর্থ।
স্বামীকে মুগ্ধ করার ক্ষমতা আমার নেই। এই যে আমি রোজ রোজ কপালে টিপ, চোখে কাজল, খোঁপায় ফুল গুজে দিয়ে জানালার গ্রিল ধরে তোমার ঘরে ফেরার অপেক্ষা করি, কখনো এসে বলেছো "তোমাকে আজ বেশ সুন্দর দেখাচ্ছে"?
বলোনি; কারন বাহিরে কারো রূপে মুগ্ধ হয়ে ঘরে ফেরা স্বামী কখনো স্ত্রীর মাঝে মুগ্ধতা খুঁজে পায়না।
স্বামীকে মুগ্ধ করার ক্ষমতা আমার নেই। এই যে আমি রোজ রোজ কপালে টিপ, চোখে কাজল, খোঁপায় ফুল গুজে দিয়ে জানালার গ্রিল ধরে তোমার ঘরে ফেরার অপেক্ষা করি, কখনো এসে বলেছো "তোমাকে আজ বেশ সুন্দর দেখাচ্ছে"?
বলোনি; কারন বাহিরে কারো রূপে মুগ্ধ হয়ে ঘরে ফেরা স্বামী কখনো স্ত্রীর মাঝে মুগ্ধতা খুঁজে পায়না।
তুমি কাউকে ভালোবাসতে, তার সাথে তোমার রোজ দেখা হয়, তুমি তার সাথে ম্যাচিং ড্রেস পরে অফিস যেতে চাও; আমাকে বলতে পারতে!
তুমি কাউকে ভালোবাসতে, তার কথা শুনলে আমি একটু কষ্ট পেলেও অভিমান করতাম না, বরং প্রতি রাতে জিজ্ঞেস করতাম " কাল কি রংয়ের শার্ট পরবে"?
স্ত্রী হিসেবে আমি অত'টা জঘন্য নই। তবে কি জানো, এই পুরাতন অনুভূতিটাকে যখন লুকিয়ে লুকিয়ে নিজের মাঝে সতেজ করে তুলো, তখন এটা প্রতারণা হয়ে যায়।
তুমি কাউকে ভালোবাসতে, তার কথা শুনলে আমি একটু কষ্ট পেলেও অভিমান করতাম না, বরং প্রতি রাতে জিজ্ঞেস করতাম " কাল কি রংয়ের শার্ট পরবে"?
স্ত্রী হিসেবে আমি অত'টা জঘন্য নই। তবে কি জানো, এই পুরাতন অনুভূতিটাকে যখন লুকিয়ে লুকিয়ে নিজের মাঝে সতেজ করে তুলো, তখন এটা প্রতারণা হয়ে যায়।
আচ্ছা ইন্দ্রনীল,
খুব ভালোবাসো অরুনিমাকে? আমাকে বাসো না?
খুব ভালোবাসো অরুনিমাকে? আমাকে বাসো না?
৫ টা বছর একই ছাদের নিচে শুধু মাত্র স্বামী স্ত্রী নামক সম্পর্কের দায়বদ্ধতা থেকেই রয়ে গেলাম।
ভালোবাসাটা আর হয়ে উঠলো না।
ভালোবাসাটা আর হয়ে উঠলো না।
সেদিন বিবাহ বার্ষিকিতে তুমি আমার জন্য টিপ কাজল নিয়ে এসেছিলে কেন?
আমি কত'টা বাচ্চা হয়ে গিয়েছিলাম সেদিন, জানো? তুমি তো কখনো এমনটা করোনি, তাই একটু বেশিই অবাক হয়ে গিয়েছিলাম।
ভেতরে ভেতরে প্রতারণা করো বলেই কি, বাহিরের এই অভিনয়?
আমি কত'টা বাচ্চা হয়ে গিয়েছিলাম সেদিন, জানো? তুমি তো কখনো এমনটা করোনি, তাই একটু বেশিই অবাক হয়ে গিয়েছিলাম।
ভেতরে ভেতরে প্রতারণা করো বলেই কি, বাহিরের এই অভিনয়?
যাইহোক, আমার জন্য ভেবো না। অরুনিমাকে বলে দিও, সে ভাগ্যবতী। ভাগ্যবতী না হলে কি চলে যাওয়ার পরও এমন ভালোবাসা কেউ পায়?
আমি তো পাশের বালিশে জায়গা পেয়েও ভালোবাসাটা পাইনি।
আমি তো পাশের বালিশে জায়গা পেয়েও ভালোবাসাটা পাইনি।
ভালো থেকো।
মনে করে দুপুরের খাবারটা ঠিকঠাক খেয়ে নিও।
মনে করে দুপুরের খাবারটা ঠিকঠাক খেয়ে নিও।
চিঠিটা শেষ করে ইন্দ্রনীল একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো।
উত্তর দেওয়ার মতো তার কাছে কিছু নেই। একটা মানুষকে দিনের পর দিন ঠকিয়ে আসার অপরাধবোধ থেকে ইন্দ্রনীল বের হতে পারছেনা।
উত্তর দেওয়ার মতো তার কাছে কিছু নেই। একটা মানুষকে দিনের পর দিন ঠকিয়ে আসার অপরাধবোধ থেকে ইন্দ্রনীল বের হতে পারছেনা।
দু ঘন্টা পর ইন্দ্রনীল তার অফিসের এইচ আর ডেস্কে একটা রিজাইন লেটার জমা দিলো এবং একটা চিঠি রেখে আসলো অরুনিমার ডেস্কের উপর।
প্রিয় অরু,
তোমাকে ভালোবাসতে বাসতে একসময় এই ভালোবাসাটাই অভ্যাস হয়ে গিয়েছিলো। অভ্যাস থেকে বের হয়ে আসার মতো কঠিন কিছু পৃথিবীতে নেই, তবুও এটা থেকে বের হয়ে আসা অসম্ভব নয়। তুমি তো জীবনে নেই, আছো হয়তো কোথাও, তবুও নেই। না থাকার মতো করে আছো।
সকালে আমাকে দেখার অপেক্ষায় তুমি যেমন পরিপাটি হয়ে অফিস আসো, আমি অফিস থেকে ঘরে ফেরার পরও কেউ কেউ পরিপাটি হয়ে বসে থাকে।
তোমাকে ভালোবাসতে বাসতে একসময় এই ভালোবাসাটাই অভ্যাস হয়ে গিয়েছিলো। অভ্যাস থেকে বের হয়ে আসার মতো কঠিন কিছু পৃথিবীতে নেই, তবুও এটা থেকে বের হয়ে আসা অসম্ভব নয়। তুমি তো জীবনে নেই, আছো হয়তো কোথাও, তবুও নেই। না থাকার মতো করে আছো।
সকালে আমাকে দেখার অপেক্ষায় তুমি যেমন পরিপাটি হয়ে অফিস আসো, আমি অফিস থেকে ঘরে ফেরার পরও কেউ কেউ পরিপাটি হয়ে বসে থাকে।
অবনী আমাদের যোগাযোগের ব্যপারটা জেনেছে। একটা মেয়ে তার নিজের ঘর ছেড়ে অন্য ঘরে আসার পর যখন জানতে পারে, সে রোজ রোজ প্রতারিত হচ্ছে, তার কেমন বোধ হতে পারে?
মানুষ একই ছাদের নিচে থাকে বিশ্বাসে! অথচ, অবনী এতগুলো দিন ভুল বিশ্বাসে বেঁচে ছিল।
তোমার সাথে আমার যোগাযোগ হোক, এটা আমি আর চাইনা।
আমি চাকরিটা ছেড়ে দিলাম। তোমাকে যেহেতু একসময় ভালোবাসতাম, সেহেতু পাশাপাশি থাকাটা আমাদের দুজনের জন্যই ক্ষতিকর।
আমি চাকরিটা ছেড়ে দিলাম। তোমাকে যেহেতু একসময় ভালোবাসতাম, সেহেতু পাশাপাশি থাকাটা আমাদের দুজনের জন্যই ক্ষতিকর।
তোমাকে ভালোবাসতে বাসতে যেমন তুমি অভ্যাস হয়ে গেছো, অবনীকে অভ্যাস ভাবতে ভাবতে আমি তাকে ভালোবেসে ফেলেছি।
ভালোবাসাকে অভ্যাস করা আর অভ্যাসটাকে ভালোবেসে ফেলার মধ্যের পার্থক্যটা আলাদা।
ভালোবাসাকে অভ্যাস করা আর অভ্যাসটাকে ভালোবেসে ফেলার মধ্যের পার্থক্যটা আলাদা।
তোমার এবং আমার আলাদা আলাদা ঘর আছে। দিনশেষে তো মানুষকে তার নিজের ঘরেই ফিরতে হয়। আমি আমার ব্যক্তিগত ঘরে ফিরতে চাই।
তুমি ভালো থেকো।
নিজের খেয়াল রেখো।
নিজের খেয়াল রেখো।
ইতি,
ইন্দ্রনীল!
ইন্দ্রনীল!
ঘরে ফেরার পথে ইন্দ্রনীল এক গুচ্ছ দোলনচাঁপা কিনে নিলো অবনীর জন্য।
মেয়েটা দোলনচাঁপা ফুল এতো পছন্দ করে।
মেয়েটা দোলনচাঁপা ফুল এতো পছন্দ করে।
পথে যেতে যেতে ইন্দ্রনীল ভাবছে, আজ রাতে বেলকনিতে বসে দু কাপ কফি হাতে নিয়ে অবনীর সাথে পূর্নিমা চাঁদ দেখবে।
কোলে মাথা রেখে তার দিকে কোন কারন ছাড়াই তাকিয়ে থাকবে।
তাকে বুঝিয়ে দিবে, ভালোবাসাটা সবসময় প্রকাশ করার সুযোগ না হলেও বুকের ভেতর ঠিকই জন্মে যায়।
কোলে মাথা রেখে তার দিকে কোন কারন ছাড়াই তাকিয়ে থাকবে।
তাকে বুঝিয়ে দিবে, ভালোবাসাটা সবসময় প্রকাশ করার সুযোগ না হলেও বুকের ভেতর ঠিকই জন্মে যায়।
ঘরের কাছে যেতেই ইন্দ্রনীল খেয়াল করলো, আজ আর কোন রূপবতী মেয়ে চোখে কাজল, কপালে টিপ, শরীরে তাঁতের শাড়ি পরে জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে নেই।
নীল দ্রুত উপরে উঠে ঘরের দরজা খুলে ভেতরে তাকানোর পর দেখতে পেলো,
টেবিলে খাবার সাজানো। একটা প্লেটে মাছের মাথাটা তুলে রাখা আছে।
মেঝেতে ছড়ানো বিয়ের কাবিননামা। বারান্দায় দুটো কফির মগ।
আজ ভরা পূর্নিমা!
জানালা দিয়ে চাঁদ ঢুকছে ঘরে। সেই চাঁদের আলো এসে পরেছে অবনীর মুখে !
টেবিলে খাবার সাজানো। একটা প্লেটে মাছের মাথাটা তুলে রাখা আছে।
মেঝেতে ছড়ানো বিয়ের কাবিননামা। বারান্দায় দুটো কফির মগ।
আজ ভরা পূর্নিমা!
জানালা দিয়ে চাঁদ ঢুকছে ঘরে। সেই চাঁদের আলো এসে পরেছে অবনীর মুখে !
ইন্দ্রনীল মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে অবনীর দিকে।
এই প্রথম সিলিংয়ে ঝুলে থাকা কোন মেয়েকে এত'টা রূপবতী দেখাচ্ছে!
এই প্রথম সিলিংয়ে ঝুলে থাকা কোন মেয়েকে এত'টা রূপবতী দেখাচ্ছে!
Comments
Post a Comment