- এ্যাই কেমন আছিস, অনিল ?
- দিব্যি চলছে! তুই কেমন আছিস, তরু?
- আমিও বেশ ভালো! তো অনেকদিন পর দেখা হলো তর সাথে!
আজকাল কোথায় থাকিস? কি করিস? বলতো!
আজকাল কোথায় থাকিস? কি করিস? বলতো!
- এই তো ছোট একটা চাকরি করছি! পুরাতন ইস্কাটনে অফিস! বাসা বনানী ৭ নাম্বার রোড! তুই কি করছিস এখন? লেখালেখিটা করিস নাকি ছেড়ে দিয়েছিস?
ইউনিভার্সিটিতে তো তুই খুব পপুলার ছিলি। এখন কবিতা টবিতা কিছু লিখিসনা বুঝি?
ইউনিভার্সিটিতে তো তুই খুব পপুলার ছিলি। এখন কবিতা টবিতা কিছু লিখিসনা বুঝি?
- একটা বাংলা সংবাদপত্রের অফিসে কাজ করছি। লেখালেখিটা ছাড়িনি। তবে, ধরেও রাখতে পারিনি!
- কবিতা লিখিসনা আর আগের মতন, নাহ?
- উহু!
- জানিস, বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাগাজিনে তর যে ক'টা কবিতা ছাপা হয়েছিলো, আমি সবগুলো পৃষ্ঠা কেটে বড় করে বাঁধিয়ে দেয়ালে লাগিয়ে রেখেছি।
- মাঝে মাঝে পড়িস তো কবিতাগুলো? কবিতার শরীরে ধূলো জমে গেলে, কষ্ট হয়!
- আর মানুষের স্মৃতিতে যদি ধূলো জমে যায়?
- তবে, কষ্ট কমে যেতে শুরু করে!
- আসলেই কি কষ্টটা কখনো কমে, অনিল?
- কমে হয়তো!
- কেমন আছিস তুই? আমাকে মনে পড়ে কখনো? খুব ভোরে? নিঃসঙ্গতায়? পরিচিত রাস্তাতে? অথবা পথে বিক্রি হওয়া শুভ্র দোলনচাঁপা দেখলে?
- আচ্ছা তর মনে পড়ে, একদম কনকনে শীতের সকালে আমাকে ৪ ঘন্টা রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রেখেছিলি?
- হ্যা, সেটা ছিল অক্টোবর মাসের ২৩ তারিখ! মাসের তৃতীয় রবিবার! সেদিন সারাদেশে হরতাল ছিল! আমি আসতে লেট করেছিলাম বলে, তুই দুঃশ্চিন্তা করেছিলি খুব! ভেবেছিলি, পিকেটারদের গাড়ি ভাংচূরের মাঝে পড়ে গিয়ে আমার কিছু হয়নি তো!
ঠিক না?
ঠিক না?
- হ্যা, খুব চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম! এত'টা দুঃশ্চিন্তা আমার জীবনে আর কখনো আসেনি!
তারপর ৪ ঘন্টা পরে তুই কনকনে শীতের দুপুরে রোদের মতো স্নিগ্ধতা নিয়ে এসেছিলি!
খোঁপায় কাঠবেলির মালা! কপালে টিপ! কানের কাছে একটা রক্তজবা!
আমার মনে হয়েছিলো, স্বর্গ থেকে এই মাত্র কোন অপ্সরী ভুল করে পৃথিবীতে নেমে এসেছে!
তর শরীরে ছিল নীল রংয়ের সিল্কের শাড়ি! শাড়িতে কিছু ফুল ফুল ডিজাইন করা ছিল! ফুলটার কথা মনে নেই, তবে সেদিনের ভুলটার কথা কখনো ভুলিনি!
তারপর ৪ ঘন্টা পরে তুই কনকনে শীতের দুপুরে রোদের মতো স্নিগ্ধতা নিয়ে এসেছিলি!
খোঁপায় কাঠবেলির মালা! কপালে টিপ! কানের কাছে একটা রক্তজবা!
আমার মনে হয়েছিলো, স্বর্গ থেকে এই মাত্র কোন অপ্সরী ভুল করে পৃথিবীতে নেমে এসেছে!
তর শরীরে ছিল নীল রংয়ের সিল্কের শাড়ি! শাড়িতে কিছু ফুল ফুল ডিজাইন করা ছিল! ফুলটার কথা মনে নেই, তবে সেদিনের ভুলটার কথা কখনো ভুলিনি!
- কি ভুল?
- ওই যে, তর স্নিগ্ধতায় মুগ্ধতা খুঁজতে যেয়ে ভুল করে ভালোবেসে ফেলেছিলাম!
মুখ ফুটে ভালোবাসার কথাটা কখনো বলতে চাইনি! সবচেয়ে কাছের বন্ধুকে ভালোবাসি বলে ফেললে, বন্ধুত্বটা নষ্ট হবে জানলে, ভালোবাসতাম না কখনোই।
মুখ ফুটে ভালোবাসার কথাটা কখনো বলতে চাইনি! সবচেয়ে কাছের বন্ধুকে ভালোবাসি বলে ফেললে, বন্ধুত্বটা নষ্ট হবে জানলে, ভালোবাসতাম না কখনোই।
- আমি তো সেদিন তকে কিছু বলিনি!
- তর নির্লিপ্ততাই আমাকে অপরাধী করে দিয়েছিলো!
- এরপর ৩ বছর আমি তকে কত খুঁজিছি, তুই জানিস?
জিগাতলায় যে মেসটাতে তুই থাকতিস, সেখানে যেয়ে খবর পেলাম তুই নেই।
তখন তো আমাদের কারো হাতে মোবাইল ফোনও ছিল না।
তুই কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলি বলতো?
জিগাতলায় যে মেসটাতে তুই থাকতিস, সেখানে যেয়ে খবর পেলাম তুই নেই।
তখন তো আমাদের কারো হাতে মোবাইল ফোনও ছিল না।
তুই কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলি বলতো?
- তখন তো আমাদের গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট হয়ে গিয়েছিলো। বাবার চাকরির ট্রান্সফার হয়ে যায় রাজশাহীতে।
হুট করে চলে যেতে হয়েছিলো। তাছাড়া, ভয় এবং লজ্জায় আমি শেষবার আর তর সাথে দেখা করতে পারিনি।
তর সাথে শেষবার দেখা হবে, এটা মেনে নেওয়া সহজ ছিল না।
হুট করে চলে যেতে হয়েছিলো। তাছাড়া, ভয় এবং লজ্জায় আমি শেষবার আর তর সাথে দেখা করতে পারিনি।
তর সাথে শেষবার দেখা হবে, এটা মেনে নেওয়া সহজ ছিল না।
- আমার জন্য খারাপ লাগেনি?
- উহু!
- আসলেও লাগেনি?
- লেগেছে, খুব কষ্ট হয়েছে। ৮ মাস পর যখন তর খোঁজ নিয়েছি, তখন জানতে পেরেছিলাম, তর বিয়ে হয়ে গেছে।
ছেলে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার! অনেক টাকা মাইনে পায় মাসে! তুই তার সাথে ভালো থাকবি, এটা ভেবে আর কখনোই কাছে আসিনি!
ছেলে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার! অনেক টাকা মাইনে পায় মাসে! তুই তার সাথে ভালো থাকবি, এটা ভেবে আর কখনোই কাছে আসিনি!
- তাহলে জিজ্ঞেস কর, "আমি কেমন আছি?"
- নাহ! এর জবাবে তুই যদি বলিস, তুই ভাল নেই, তাহলে মানতে পারবো না।
- অনিল, শোন!
- হ্যা তরু!
- নাহ, কিছুনা!
- আগের অভ্যাসটা যায়নি এখনো। আগেও এরকম কিছু বলবি বলে, কখনো বলিসনি!
- তুই কখনো বুঝার চেষ্টা করেছিলি, কি বলতে চাই?
- অনুমান করেছিলাম। তবে, সেই অনুমানটাকে বিশ্বাস করার স্পর্ধা কখনো হয়নি!
- দু লাইনের একটা কবিতা লিখে দিবি?
- কোথায় লিখবো?
- হাতে লিখে দে!
- সেই পুরাতন অভ্যাস!
- বাহিরটা বদলায়! অভ্যাস বড্ড বেহায়া স্বভাবের!
- আমাকে যেতে হবে রে! রূপরেখার স্কুল ছুটি হওয়ার সময় হয়ে গেছে!
- রূপরেখা কে? তর মেয়ে নিশ্চয়ই!
- হ্যা, আমার মেয়ে! ক্লাস টু তে পড়ে!
- আমারও একটা মেয়ে আছে!
- কি নাম?
- রূপরেখা!
- একই নাম?
- তুই একদিন গল্পের ছলে বলেছিলি, তর মেয়ে হলে নাম রাখবি রূপরেখা আর ছেলে হলে সমুদ্র! তাই, নামটা চুরি করেছিলাম!
- আজ যাই রে!
- চলে যাবি?
- যেতে হবে যে!
- আমাদের আর কখনো দেখা হবেনা, নাহ?
Comments
Post a Comment