যার সাথে বনিবনা হচ্ছেনা, তার সাথে জোর করে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার মাঝে তেমন কোন মহত্ব নেই!
একটা মানুষকে আমি ভালোবাসি মানে, সারাজীবন ভালোবাসতেই হবে, এই বাধ্যবাধকতা আমি আমার মনের উপর ছুড়ে দিতে পারিনা!
একসময় একটা মানুষকে ভালো লাগতো, কারো জন্য একটা আবেগের জায়গা ছিল,
কারো কন্ঠস্বরে প্রেম ছিল, কারো অনুপস্থিতিতে বুকের ভেতর শূন্যতা জন্ম নিতো!
এখন প্রেম নেই! আবেগ নেই! শূন্যতা নেই!
তারপরও তার সাথে সম্পর্কে ঝুলে থাকতে হবে, এই নিয়মটা কে বানিয়েছে?
যে সম্পর্কটা ঠিকঠাক শ্বাস নিতে পারছে না! যে সম্পর্কটাতে একজনের প্রতি অন্যজনের শ্রদ্ধার জায়গাটাই নষ্ট হয়ে গেছে, সেই দমবন্ধ লাগা মায়া থেকে মুক্তি পাওয়ার একটাই উপায় আছে, বিচ্ছেদ!
আমি তোমাকে বলছিনা, হুটহাট বিচ্ছেদ করে মুক্ত হয়ে যাও!
মুক্ত হও, যখন সম্পর্কের দায়বদ্ধতায় তোমার অক্সিজেনের অভাববোধ হয়!
বিচ্ছেদ মানে সবসময় আসলে, দোষারোপ পর্ব দিয়ে সম্পর্কটাকে শেষ করা না!
মিউচুয়ালিও দুজন মানুষ আলাদা হওয়া যায়। তোমার সাথে আমার এডজাস্ট হচ্ছেনা! তোমার ভালোবাসা আমাকে তৃপ্তি দিচ্ছে না!
তোমার জন্য আমি আর কোন টান অনুভব করছিনা! এই কথাগুলো সুন্দর করে গুছিয়েও মানুষটাকে বলা যায় " আমি আর তোমার সাথে থাকতে চাইছি না"!!
আমার কাছে সবচেয়ে হাস্যকর ব্যপার হলো, সম্পর্কের শেষের দিকে এসে আমরা একজন অন্যজনকে তার দোষগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেই!
দোষ দেওয়ার ক্ষেত্রে দুজন মানুষই জিতে যেতে চায়! যার দোষ বেশি দেখানো যাবে, পবিত্রতার দিক থেকে সে হেরে গেলো!
তারপর আলাদা হয়ে যাওয়া!
এতে হয় কি, এইযে যে মানুষটা এতদিন প্রিয় ছিল, তাকে অপ্রিয় বলে ঘোষনা দেওয়া!
দোষারোপ পর্বে পারস্পরিক শ্রদ্ধার জায়গাটা নষ্ট হয়ে যায়!
আমি বলি কি, জীবনটাতো ছোট! এখানে ভালোবাসার মানুষকে ঘৃণা করতে হবে কেন!
থাক না, এক সময়ের মানুষটা শ্রদ্ধাবোধের জায়গায়!
আমি আমার একটা ব্যক্তিগত ঘটনা বলি,
খুব সম্ভত ১৮ মাস আগে আমাদের বিচ্ছেদ হয়! অন্য দশটা প্রেমের মতো এটাও প্রচন্ড ভাংচূর নিয়ে বুকের ভেতর ঢুকেছিলো!
সম্পর্কটা চলছিলোও বেশ! তারপর আর ঠিকঠাক চলছিলো না!
আমি চেষ্টা করেছিলাম, সব ঠিকঠাক থাকুক! তবুও হয়ে উঠেনি!
দুজন মানুষ কয়েকবছর পর বুঝে উঠলাম, আমাদের আসলে এডজাস্টমেন্ট প্রবলেম আছে!
আপনি বলতে পারেন, বুঝে উঠতে কয়েক বছর লেগে গেলো?
আমি বলবো, হ্যা লেগে গেছে! শুধু কয়েক বছর না, ৩০ বছর সংসার করেও অনেক মানুষ অতৃপ্তির ঢেকুর তুলে মরে যায়!
মৃত্যুর শেষ শ্বাসও অনেকের দীর্ঘশ্বাস হয়!
সে যাই হোক,
একদিন সন্ধ্যায় সে আমাকে জানালো, " আমি না তোমার সাথে আর থাকতে চাচ্ছি না! আমার আসলে এই সম্পর্কটা ভালো লাগছে না!"
আমি একজন মনোযোগী শ্রোতার মতো একটা আলাদা হয়ে যাওয়ার গল্প শুনতে লাগলাম!
আমি তার গুরুত্বও দিলাম! আমি মেনে নিলাম! জবাবে বললাম, '' ওকে, ফাইন!"
আমরা আলাদা হয়ে গেলাম কোনরকম দোষারোপ পর্ব ছাড়াই!
একটা মানুষের কাছে আমাকে ভালো লাগছেনা, এটা জানার পর আমি নিশ্চয়ই তার সাথে জোর করে থাকবো না।
অত'টা আত্মসম্মানবোধহীন প্রেমিকও আমি না! আমার কাছে, প্রত্যেকটা মানুষের ব্যক্তিগত মতামত এবং অনুভূতির মূল্য আছে!
একটা মানুষ আরেকটা মানুষের কাছ থেকে যেকোন সময় আলাদা হয়ে যাওয়ার স্বাধীনতা রাখে!
ভালো লাগছেনা, তবুও ইচ্ছের বাইরে একসাথে থাকতেই হবে কেন?
আলাদা হয়ে যাওয়াতে তো অন্যয় দেখি না, বরং ইচ্ছের বাইরে একটা মানুষের সাথে থেকে যাওয়াটাই অন্যায়।
এতে প্রতিনিয়ত নিজেকে ঠকে যেতে হয়!
আমাদের সম্পর্কটা নেই। যোগাযোগ আছে!
হুট করে একদিন কথা হলে, দুজন মানুষই মনোযোগ দিয়ে একজন অন্যজনকে শুনি।
আমাদের কথোপকোথনে ভালোবাসা নামক কোন শব্দ থাকেনা, তবে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধটা থাকে।
আলাদা হয়ে গেলেই ঘৃণা করতে হবে, এই নিয়মটা যারা বানিয়েছে, তাদের সাথে আমার মানসিকতার প্রচন্ড অমিল আছে!
এই যে মানুষগুলো বিয়ের পর আলাদা হয়ে যায়, আমি এপ্রিশিয়েট করি!
একটা কাগজে সাক্ষর করা মানেই, নিজের সম্পূর্ন ব্যক্তিত্ববোধকে হস্তান্তর করে দেওয়া না।
একই ঘরে, একই বালিশে ঘুমিয়েও যদি দুটো মানুষ মনের দিক থেকে কাছে আসতে না পারে, তাকে কি সংসার বলা যায়?
তালাক প্রাপ্ত মেয়েদের আমরা বেশ অবহেলার চোখেই দেখি!
ডিভোর্সের পর সমাজ তাদেরকে টেনে হিচরে নিচে নামিয়ে আনে।
কেউ কেউ ডিভোর্সের পর ঘর থেকে বের হয়না, বেশি মানুষের সামনে যায়না, এমনকি নিজের কাছ থেকেও লুকিয়ে বেরায়!
আমি, তুমি, আমরা টের পাইনা, একটা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পেছনে, সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখার কত'টা ব্যর্থ চেষ্টা থাকে।
যার ঘর, সে জানে "কত'টা ব্যথা বুকে নিয়ে মানুষ আলাদা হয়!"
প্রেম অথবা বিয়ে,
যেখানে নিজের একটা নিরাপদ জায়গা তৈরী না হয়, সেখানে থেকে যাওয়ার কোন কারন নেই।
বরং কিছু কিছু বিচ্ছেদই মুক্তির পথে হেটে যাওয়া শেখায়!
প্রেমিকা চলে গেলে, সে মাগী ! ডিভোর্স হয়ে গেলে, বেশ্যা!
প্রেমিক চলে গেলে, প্রতারক!
এসব টাইটেল দেওয়া তো সহজ! কঠিন, সবকিছু চলে যাওয়ার পরও এসব টাইটেল না লাগিয়ে, বেড়ে উঠা।
ভালো লাগবেনা, থাকবেনা!
ভালো লাগবে, থাকবে!
এডজাস্ট হচ্ছেনা, বিদায়!
এডজাস্ট হচ্ছে, ফাইন!
এসব ব্যপারগুলো খুবই স্বাভাবিক বিষয়! মানুষের সাথে মানুষের বিচ্ছেদ হবে, এটাতে অন্যায় থাকে না!
বরং মানুষ নিজের মতো করে বাঁচতে শিখুক!
নিজেকে ভালো রাখুক!
নিজের ভালো থাকার জন্য যদি বিচ্ছেদ করা লাগে, তবে বিচ্ছেদই হোক সর্বজনস্বীকৃত সমাধান।
নিজেকে হারিয়ে বেঁচে থাকার যে জীবন, তাকে বেঁচে থাকা বলেনা।
তবুও, সম্পর্কগুলো নষ্ট না হোক আমাদের! একটা সম্পর্কের নিচে চাপা দেওয়া থাকে হাজারো ভালো খারাপ, আনন্দ বেদনার গল্প!
নিজেকে মানিয়ে নেওয়াই জীবন! মেনে নেওয়া এবং মানিয়ে নেওয়াটা যে একবার ঠিকঠাক শিখে যায়, একদিন সে ভালো থাকতেও শিখে যায়!
মিউচুয়্যাল ব্রেকাপ!

Comments

Popular posts from this blog